1. news@www.dailyjamalpursangbad24.com : উৎসবের আলো : উৎসবের আলো
  2. info@www.dailyjamalpursangbad24.com : দৈনিক উৎসবের আলো : দৈনিক উৎসবের আলো দৈনিক উৎসবের আলো
  3. info@www.dailyjamalpursangbad24.com : দৈনিক জামালপুর সংবাদ ২৪ :
শুক্রবার, ০৪ এপ্রিল ২০২৫, ০৩:২৮ পূর্বাহ্ন

তারেকুল টাকা ফেরত দিয়া প্রমাণ করিল সে আত্মসাৎ করিয়াছে

দৈনিক জামালপুর সংবাদ ২৪
  • প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২০ মার্চ, ২০২৫
  • ৭ বার পড়া হয়েছে

কামরুল হাসান: (লেখক: সাংবাদিক, ফিচার ও কলাম লেখক)
জামালপুরের সরিষাবাড়ী উপজেলাধীন রূপালী ব্যাংক আরামনগর বাজার শাখার শাখা ব্যবস্থাপক তারেকুল ইসলাম ও দ্বিতীয় কর্মকর্তা শিলা বেগম নামে দুই কর্মকর্তা সম্প্রতি অবৈধ উপায়ে ব্যাংকের টাকা আত্মসাৎ করেন। এ বিষয়ে ৬ মার্চ এক ব্যক্তি (নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক) মহা ব্যবস্থাপকের নিকট তদন্ত পূর্বক শাস্তির দাবী জানিয়ে আবেদন করেন। ঘটনাটি প্রকাশ পেলে তড়িঘড়ি আত্মসাৎকৃত টাকা ফের ব্যাংক হিসাবে জমা দেন তারা। তাই শরৎ চন্দ্রের ন্যায় বলিতে হচ্ছে-‘তারিকুল টাকা ফেরত দিয়া প্রমাণ করিল সে আত্মসাৎ করিয়াছে।’
আবেদন সূত্রে জানা যায়, রিয়া খাতুন নামে এক ব্যক্তি ওই ব্যাংক শাখায় ‘নো ওয়ার্ক নো পে’ হিসেবে কাজ করেন। তিনি গত বছরের ১৮ ডিসেম্বর জামালপুর শহরের শেখেরভিটাস্থ পিউর ল্যাব এন্ড হসপিটালে সন্তান প্রসব করেন। সন্তান প্রসবের দিন হতে চলতি বছরের ফেব্রæয়ারী মাস পর্যন্ত একদিনও অফিস করেন নি। অথচ ওই ব্যক্তি কাজ না করলেও তার ৫৯২৬০১০০০৬২৭০ নং ব্যাংক হিসাবে প্রতি কর্ম দিবসের টাকা জমা হয়েছে। যেমন-ডিসেম্বর/২০২৪ মাসের ১১ হাজার টাকা, জানু/২০২৫ মাসের ১১ হাজার টাকা ও ফেব্রæ/২০২৫ মাসের ১০ হাজার টাকাসহ মোট ৩২ হাজার টাকা। যা শাখা ব্যবস্থাপক ও দ্বিতীয় কর্মকর্তা ভাগাভাগি করে খাচ্ছেন। উল্লেখ্য, রিয়া খাতুন ২০২৪ সালের ১৮ ডিসেম্বর সন্তান প্রসব করলেও তার ব্যাংক হিসাবে কিন্তু ওই (ডিসেম্বর) মাসের মোট কর্ম দিবসেরই বেতন যোগ হয়েছে। অর্থাৎ রিয়া ওই মাসের ১৭ তারিখ পর্যন্ত কাজ করেছেন অথচ তার ব্যাংক হিসাবে পুরো মাসেরই বেতন জমা হয়েছে। উক্ত শাখায় ‘নো ওয়ার্ক নো পে’ হিসেবে কর্মরতরা হাজিরা খাতায় স্বাক্ষর করেন না। শাখা ব্যবস্থাপক নিজেই হাজিরা খাতায় উপস্থিত/অনুপস্থিত মার্ক করেন। তবে রিয়া খাতুনের উপর ভর করে শাখা ব্যবস্থাপক ও দ্বিতীয় কর্মকর্তা যে টাকা আত্মসাৎ করেছিলেন তা প্রকাশ পেয়ে যায়। তাই ১৮ মার্চ/২০২৫ তারিখে ফের ২১ হাজার টাকা ব্যাংকের হিসাবে জমা করেছেন ওই দুই কর্মকর্তা। তবুও কিন্তু একটা গলদ থেকেই যায়, যেমন রিয়া খাতুন গত বছরের ডিসে¤র^ মাসের ১৭ তারিখ পর্যন্ত কাজ করেছেন। আর ১৮ ডিসেম্বর হতে মাতৃত্বের জন্য অনুপস্থিত ছিলেন। অথচ তার ব্যাংক হিসাবে পুরো ডিসেম্বর মাসেরই বেতন জমা হয়েছে। সে হিসেবে ওই মাসের আনুপাতিক হারে যে পরিমান টাকা ব্যাংকে ফেরত দেয়ার কথা তা কিন্তু দেয়া হয় নি। এ হিসেবে অন্তত পক্ষে আরো ৫ হাজার টাকা ওই শাখার ব্যাংক হিসেবে জমা হওয়ার কথা। কিন্তু তা হয় নি।
এ বিষয়ে রিয়া খাতুন ওই ব্যাংক শাখায় কাজ করেন বলে জানান। তিনি যে মাতৃত্বের জন্য আড়াই মাস ছুটিতে ছিলেন তাও স্বীকার করেন। তবে তার পদের নাম কি? জানতে চাইলে ফোনের সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেন। দ্বিতীয় কর্মকর্তা শীলা’র সাথে কথা হলে তিনি জানান, রিয়া খাতুন ১৮ ডিসেম্বর/২০২৫ হতে ফেব্রæয়ারী/২০২৫ পর্যন্ত মাতৃত্বের ছুটিতে ছিলেন। শাখা ব্যবস্থাপক তারেকুল ইসলাম মনির জানান, রিয়া খাতুন তার শাখায় ‘নো ওয়ার্ক নো পে’ হিসেবে কর্মরত আছেন। তিনি ১৮ ডিসেম্বর/২০২৫ হতে ফেব্রæয়ারী/২০২৫ পর্যন্ত আড়াই মাস মাতৃত্বের জন্য ছুটিতে ছিলেন বলেও স্বীকার করেন। এ বিষয়ে উপ-মহা ব্যবস্থাপক মনির উদ্দিন ভঁ‚ইয়ার সাথে যোগাযোগ করলে তিনি শাখা ব্যবস্থাপকের সাথে কথা বলতে বলেন। মহা ব্যবস্থাপক ইকবাল হোসেন খানের সাথে যোগাযোগের জন্য বারংবার চেষ্টা করেও তা সম্ভব হয় নি।
কামরুল হাসান

সংবাদটি শেয়ার করুন

আরো সংবাদ পড়ুন
© দৈনিক জামালপুর সংবাদ ২৪
ওয়েবসাইট ডিজাইন: ইয়োলো হোস্ট