কামরুল হাসান:
জামালপুর সদর উপজেলার দিগপাইত ইউনিয়নের হরিদ্রাটা গ্রামের নাছির উদ্দিনের ১২ বছরের ছেলে সামিউল (১২)। সে এখন পোল্ট্রি ফার্মে কাজ করে। টাকার জন্য অন্যের পোল্ট্রিতে নয়, বরং স্কুল ফাঁকি দিয়ে পালানোর শাস্তি হিসেবে বাবার পোল্ট্রিতেই। তার যে বয়স তাতে এখন সহপাঠিদের সাথে স্কুলে যাওয়া আর সমবয়সীদের সাথে হেসে খেলে কাটানোর কথা। কিন্তু তার হাতে বই পুস্তক কলম আর ব্যাট বল র্যাকেটের বদলে তুলে নিতে হয়েছে কাজের ভারী যন্ত্র। এমনতো কথা ছিল না।
সামিউল ১ মার্চ সকালে দিগপাইতের সান-শাইন ল্যাবরেটরী স্কুলের কথা বলে বাড়ী হতে বের হয়। কিন্তু সে স্কুলে না গিয়ে দুপুরে মাতারপাড়ার আঃ হামিদের ছেলে তোতা মেকারের বাড়ি গিয়ে পৌঁছে। পানি পানের জন্য টিউবওয়েল খুঁজতে থাকে। পরে গোসলখানার দরজা খুলে এক অনাকাঙ্খিত ঘটনায় জড়িয়ে পড়ে । কারন সে সময় তোতা মেকারের ছেলে শান্ত মিয়ার স্ত্রী (নতুন বউ) সুমাইয়া গোসল করতেছিল। সামিউলের হঠাৎ দরজা খোলায় সুমাইয়া বিব্রতকর অবস্থায় পড়ে। সামিউলও তাড়াতাড়ি করে ফের দরজা বন্ধ করে দৌড়ে পালাতে থাকে। এমন কান্ডে সুমাইয়া রীতিমত ভয় পেয়ে যায়। তাই সে তার ননদ তামান্নাকে ডাকতে থাকে। পরে তামান্না ্এসে গোসলখানার দরজা খুলে দেয়। সামিউলের দৌড়ে পালানো দেখে স্থানীয় ফজর খাবলীর ছেলে ইয়াছিন তাকে আটকায়ে কারন জানতে চায়। সামিউলের কথা থেকে জানতে পারে পাশের বাড়ির রমজান খাবলীর ছেলে দেলোয়ার ফুপা হয়। সেটা জানার পর সেখান থেকে তাকে ছেড়ে দেয়। তারপর সামিউল ছাতারকান্দি বাসস্ট্যান্ড হয়ে ধনবাড়ী যাওয়ার জন্য বেলতলা মসজিদের সামনে থেকে ভ্যানে ওঠে। ওদিকে সামিউল বাড়ি না ফেরায় তার আপন জনেরা তাকে সম্ভাব্য প্রায় সকল জায়গায় খোঁজা-খুঁজি করতে থাকে। ২ দিন ২ রাত খোঁজেও সামিউলের সন্ধান না পাওয়ায় তার বাবা নাছির উদ্দিন ৩ মার্চ নারায়নপুর পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রে একটি জিডি করেন। জিডির সূত্র ধরে তদন্তকারী পুলিশ কর্মকর্তা সামিউলকে উদ্ধারে আপ্রাণ চেষ্টা চালান। অতঃপর ৬ দিন পর ৭ মার্চ তদন্তকারী পুলিশ কর্মকর্তা গোপাল বাবু মধুপুর থেকে সামিউলকে উদ্ধার করেন। সামিউল উদ্ধারের সংবাদে এলাকায় স্বস্তির হাওয়া বইতে শুরু করে। তাই এলাকাবাসীও পুলিশ বাহিনীকে সাধুবাদ জানিয়েছে। সান-শাইন ল্যাবরেটরী স্কুলের পরিচালক মন্ডলীর সভাপতি আঃ মান্নান জানান, সামিউল আগে তার স্কুলের ছাত্র ছিল। কিন্তু চলতি বছরের ১৪ জানুয়ারী থেকে সে স্কুলে আসে না। তাই তার কথা এখন ছেড়েই দিয়েছেন। কারন-সামিউল জানুয়ারী মাসে মোট ৮ দিন উপস্থিত ছিল। এমনও আছে কোন মাসে একদিনও উপস্থিত ছিল না। আবার কোন মাসে ৮ দিন, কোন মাসে ১২ দিন আবার কোন মাসে ১৫ দিন উপস্থিত ছিল। তার ঘরে সৎ মা হয়তো সে জন্য তার মধ্যে কোন বিরূপ প্রতিক্রিয়া চলছে।