কামরুল হাসান:
জামালপুর সদর উপজেলার রশিদপুর ইউনিয়ন পরিষদ সংলগ্ন তুলশীপুর খাসপাড়ার বাসিন্দা লাল মিয়া। পৈত্রিক নিবাস একই উপজেলার তিতপল্লা ইউনিয়নের নারায়নপুর জামতলী। তার বাবার নাম সুরুজ আলী। অনেক দিন আগেই তিনি গত হয়েছেন। বড় ভাই চাঁন মিয়াও গত হয়েছেন বেশ কয়েক বছর আগে। বংশে বেঁচে আছেন শুধু মাত্র ছোট ভাই কালাম মিয়া। তিনি স্থানীয় বাজারে ছেলে-পুলেদের নিয়ে মেকানিক মানে মেকারের কাজ করেন। লাল মিয়া তুলশীপুর খাসপাড়ার সুরুজ্জামানের মেয়েকে বিয়ে করেন। বিয়ের পর থেকে শ^শুড় বাড়িতেই অবস্থান করছেন তিনি। আগে তিনি সিএনজি চালাতেন। চালকরা সাধারনত বহু বিয়ে বা নারীর পাশাপাশি মাদকাসক্ত হয়ে থাকেন। তাই বলে আবার সব চালক নয়। চালকদের মধ্যে অনেকেই। এতেও যদি কোন চালকের আপত্তি থাকে-তাহলে বেছে বেছে মাত্র ১ ডজন চালক খুঁজে বের করুন। যারা নারী ও মাদকাসক্ত নয়। আসল কথায় ফিরে আসি। তুলশীপুর এলাকায় খোঁজ-খবর নিয়ে জানা যায়, লাল মিয়া আগে থেকেই নারী ও মাদকাসক্ত। এর আগেও তাকে এ সব বিষয়ে বেশ কয়েক বার বিচার করা হয়েছে। নারায়নপুর জামতলী এলাকাতেও খোঁজ-খবর নিয়ে জানা যায়, সে অনেক দিন আগেই তুলশীপর চলে গেছে। তবে এখানে থাকতেও এমন কাজ কারবার করেছে। তাই তাকে এলাকা ছেড়ে চলে যেতে হয়েছে। মানুষরূপী অমানুষ, পশুরূপী নরপশু ও রক্তখেকো দানবরূপী পিচাশ লাল মিয়া গত শুক্রবার এক বাক প্রতিবন্ধীর সাথে পাশবিক নির্যাতন চালায়। ভিকটিমের বাবা ওই দিন রাতেই সদর থানায় মামলা করেন। ঘটনার দিন দুপুরে তেরো বছর বয়সী ওই বাক প্রতিবন্ধী মেয়েটি রাস্তার পাশে একা খেলছিল। সুযোগ বুঝে ওই পিচাশ নরপশু লাল মিয়া তাকে পাশবিক নির্যাতন করে। একেতো পবিত্র দিন জুম্মাবার তারপর পবিত্র মাহে রমজান মাস। আর এ মাসে দিনে-দুপুরে এমন ন্যাক্কার জনক জগন্য কাজ কোন স্বাভাবিক মানুষের পক্ষে সম্ভব নয়। ঘটনা জানা জানি হলে লাল মিয়া গা ঢাকা দেয়। পুলিশ এলাকায় আসে আর চলে যায়। কিন্তু দায়িককে খুঁজে পায় না। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট ওয়ার্ড মেম্বার লেবু মিয়ার সাথে কথা হলে লাল মিয়ার স্ত্রী ও শ^শুরের নাম জানতে চাই। কিন্তু উত্তরে লেবু মেম্বার তা জানেন না বলে জানান। তাই তার কথা-বার্তা ঠিক ভালো ঠেকলো না। কারন- তার বাড়ির সাথে লাগানো লাল মিয়ার বাড়ি। অথচ সে নাকি লাল মিয়ার শ^শুরের নাম এমন কি লাল মিয়ার স্ত্রীর নাম কি তা জানে না। ইউপি প্রশাসক ও সচিব ফজলুল করিমের সাথে যোগাযোগ করলে তিনিও ঘটনার বিষয়ে কিছুই জানেন না বলে জানান। মানলাম যে, তিনি দূরে অস্থান করেন। তাছাড়া শুক্র ও শনিবার বন্ধ থাকায় তিনি আসেন নি। তাই জানেন না। কিন্তু ভিকটিম ও দায়িক উভয়েরই বাড়ি শুধু লেবু মেম্বারের নিজ ওয়ার্ডেই নয় বরং বাড়ির পাশে। তাই প্রশ্ন জাগে- তিনি কিভাবে বলতে পারেন যে, তিনি জানেন না! তাই তাকে ধরতেও পারে না। এটা অস্বাভাবিকের কিছু নয়। কারন- যেখানে ঘরে পাশের খবর জানেন না লেবু মেম্বার, সেখানে পুলিশ কি করে জানবে যে, দায়িক ব্যক্তি কই? ওসব কথা পগারে যাক- সবার আগে পিচাশ নরপশু লাল মিয়াদের
দৃষ্টান্ত মূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে! ভাবতে হবে-এ দায়িত্বটা নেবে কে? আর এ গুরু দায়িত্বটা পালনই বা করবে কে? অতএব, যে যিনি বা যারা পারবেন সে তিনি বা তারাই দায়িত্ব নেবেন। এমন কি দায়িত্বে থাকবেন। তাই থাকাও উচিত। (লেখক: কামরুল হাসান-সাংবাদিক, ফিচার ও কলাম লেখক)
কামরুল হাসান