কামরুল হাসান:
জামালপুরের সরিষাবাড়ীর এক হরেক মাল ব্যবসায়ীর ব্যবসা মন্দার কারনে তার কপাল পুড়তে বসেছে।
জানা যায়, উপজেলার কামরাবাদ এলাকার হরেক মাল ব্যবসায়ী মনহর বাদশা। বছর দুই আগেও তিনি বেশ মৌজ-মস্তিতে দিন কাটাতেন। হঠাৎ তার মাথায় ব্যবসা বাড়ানোর পাশাপাশি লোকবল বাড়ানোর ভুত চেপে বসে। তাই খেটে-মেটে ও কলা-কৌশলে ব্যবসার পরিধিসহ লোকবলও বাড়াতে সক্ষম হলেন। অল্প দিনের মধ্যেই বেশ টাকা-পয়সার মালিকও হলেন। এক সময় ব্যবসায়ী সংগঠনের নেতাও হয়ে গেলেন। কিন্তু তার সে সুখ বেশি দিন সইলো না। কারন তাকে বড় অহমিকায় পেয়ে বসলো। তাই অহংকারে তার পা যেন আর মাটিতে পড়েনা। রোজ রোজ নগদ টাকার মুখ দেখলে যা হয়। এক সময় তিনি নারী কেলেঙ্কারীতে জড়িয়ে পড়লেন। এ কারনে তার বউ সুন্দরী বেগমের সাথে মনোমালিন্য চলতে লাগলো। এক পর্যায়ে তিনি বাড়িতে যাওয়াও বন্ধ করে দেন। লোকমুখে প্রকাশ পায় যে, তিনি নাকি দ্বিতীয় বিয়ে করে নিয়েছেন। তারপর যা হবার তাই হতে লাগলো! দিন দিন তার ব্যবসায়িক সুনাম নষ্টের সাথে লেন-দেনেও ঘাটতির যোগ হতে লাগলো। এরই মধ্যে দেশের পট পরিবর্তন হলো। তাই তার আগেকার মত দাপট আর কাজে লাগেনা। এক সময় আপন জন, বন্ধু-বান্ধব ও আত্মীয়-স্বজন সবাই দূরে চলে যেতে লাগলো। এমনকি দ্বিতীয় বিয়ের বউও। আগের বউয়ের সাথে উপর্যুপরি খারাপ আচরন করায় বেচারা তার কাছেও যেতে পারছেন না। তাই তিনি অহংকার কমিয়ে আপাতত ছোট পরিসরের ব্যবসাটা আকড়ে ধরে পড়ে আছেন। স্থানীয় ব্যবসায়ীদের মন্তব্য-দ্বিতীয় বিয়েটা তেমন সমস্যা ছিলনা তার। দেশের পট পরিবর্তনও কিছু না। আসল কথা- ব্যবসা মন্দার কারনেই হরেক মাল ব্যবসায়ী মনোহর বাদশার কপাল পুড়তে বসছে। কারন, ব্যবসা যদি ভালো হয়, তাহলে অমন আরো দুইটা বিয়ে করাও সমস্যা নয়। দেশের পট পরিবর্তন বলো আর ফট পরিবর্তন বলো সেটা কিছুই না। মনহর খুবই জেদি গোছের লোক। তাই আগের বউয়ের সাথে জেদ করে অনেক টাকা-পয়সা নষ্ট করেছে। মোট কথা ব্যবসার পূঁজি কমাতে বড় ধরনের ধরা খেয়েছে।