কামরুল হাসান
জামালপুর সদর উপজেলার শাহবাজপুর ইউনিয়নের বিয়ারা গ্রামের মোল্লা বাড়ীর মোকছেদ মোল্লার ছেলে ছানু মোল্লার অত্যাচারে প্রতিবেশীরা অতিষ্ঠ। অসহায় ভুক্তভোগীরা শত কষ্ট নীরবে সহ্যকরে আসছে। কিন্তু ছানু মোল্লা ও তার পরিবারের সদস্যদের অত্যাচারের মাত্রা দিন দিন বেড়েই চলছে। তাই সচেতন মহলে প্রশ্ন উঠেছে- ছানু মোল্লার খুঁটির জোর কোথায়?
জানা যায়, ছানু মোল্লা দীর্ঘ দিন ধরে একই বাড়ির মৃত আব্দুস সামাদ মোল্লার ছেলে আক্তার মোল্লার পরিবারের সদস্যদের ওপর জোর-জুলুম করে আসছে। মোল্লা ও তার পরিবারের সদস্যরা গত ২ বছরে আক্তার মোল্লার স্ত্রী শিল্পী বেগমকে অন্তত ৩ বার মেরেছে। এছাড়া আক্তার মোল্লার ক্ষেতের ফসল, গরু, ছাগল, হাঁস, মুরগীসহ শাক-সব্জির ক্ষয় ক্ষতি করে আসছে সে। আক্তার মোল্লার ছেলে-মেয়ে সবাই লেখাপড়া ও চাকুরীর সুবাদে বাড়ি থেকে দূরে থাকে। আর সেও কাজের জন্য সব সময় বাড়িতে থাকতে পারেনা। এ সুযোগে ছানু মোল্লা ও তার পরিবারের সদস্যদের অত্যাচারের মাত্রা বেড়েই চলছে। গত ১৬ ফেব্রæয়ারী সকালে ছানু মোল্লার স্ত্রী নাজমা বেগম আক্তার মোল্লার ভাইয়ের আমবাগানের গাছ কেটে ব্যাপক ক্ষতি করে। আক্তার মোল্লার স্ত্রী শিল্পী বেগম এর প্রতিবাদ করায় তাকে গালাগালিসহ মারধোর করে নাজমা বেগম। আক্তার মোল্লা এ ঘটনা ছানু মোল্লাকে জানালে উল্টো তাকেই গালাগালি দেয়। সেই সাথে মারপিট করে বাড়ি থেকে তাড়িয়ে দেবে মর্মে হুমকি দেয়। এর আগেও বাগানের গাছপালার ক্ষতি করে। এ বিষয়েও কথা বলতে গেলে উল্টো মারপিট করে। এ সব ঘটনা প্রতিবেশিরা জানে। ছানু মোল্লা ও নাজমা বেগম এলাকার কারো কথাই শুনেনা। মানেও না । তারা দুজনই এলাকাতে তুখোড় ঝগড়াটে হিসেবে পরিচিত। এলাকাবাসী জানায়, ছানু মোল্লার সাথে পালিয়ে গিয়ে নাজমা বেগমের বিয়ে হয়। তাই মোকছেদ মোল্লা ছানু মোল্লাকে বাড়িতে উঠতে দেয়নি। সেই থেকে ছানু মোল্লা শ^শুর বাড়িতেই থাকতো। কোন রকমে দিনপাত করতো। এক সময় প্রতিবেশির সহযোগিতায় নাজমা বেগম ব্র্যাকের পুষ্টি কর্মসূচিতে কাজ পায়। দুর্ত ছানু মোল্লার বুদ্ধিতে নাজমা বেগম ওই কর্মসূচির চাল, ডাল, গুড় ও তেল চুরি করে নিজের সংসারে খাটায়। আর কিছুটা বিক্রি করে দেয়। ওদিকে ছানু মোল্লা বাজারে বাজারে দালালি কাজ ও ছোট খাটো ব্যবসা করে কিছু টাকা জমা করে। সেই টাকা চড়া সুদে খাঁটিয়ে কিছু টাকার মালিক হয়। এ ছাড়া তার ছেলে নাহিদ কিছু দিন আগে ডুপ্লিকেট সিমকার্ড বিক্রি ও টাকা হ্যাক করার সাথে জড়িয়ে পড়ে। এক সময় হ্যাকার চক্রের সাথে কাজ করার ঘটনা এলাকায় প্রকাশ পেয়ে যায়। বিষয়টি পরে আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর নজরে পড়ে। আক্তার মোল্লার বাড়িতে লোকজন না থাকায় ছানু মোল্লা জায়গা জমি, ক্ষেত খোলা, গাছ পালা,পুকুরের মাছসহ নানান কিছুর ক্ষতি করে চলছে। এ বিষয়ে কিছু বলতে গেলেই উল্টো মারতে আসে। তাই এলাকাবাসীর মনে প্রশ্ন জেগেছে- অত্যাচারী ছানু মোল্লার খুঁটির জোর কোথায়?
কামরুল হাসান