রিমন চৌধুরী,নীলফামারী প্রতিনিধিঃ
ব্যক্তিগত অফিস ও ব্যবসায়িক কাজে ব্যবহারের জন্য চার বছর আগে চুক্তিতে নেয়া দোকান ভাড়ার চুক্তির টাকা ফেরত চাইলে হুমকির শিকার হন স্থানীয় সংবাদকর্মী শাহিনুর রহমান। দোকান ঘরের মালিক মো. শফিক আল ওয়াজান (সম্রাট) তাকে টাকা ফেরত না দিয়ে হুমকি দেয়। এবিষয়ে ভুক্তভোগী শাহিনুর রহমান ডোমার থানায় একটি অভিযোগ দায়ের করেন।
ভুক্তভোগী সাংবাদিক শাহিনুর রহমান ডোমার পৌরসভার ছোট রাউতা (ডাঙ্গাপাড়া) এলাকার মো. আবতার উদ্দিনের ছেলে ও দৈনিক কালবেলা পত্রিকার ডোমার উপজেলা প্রতিনিধি।
অভিযুক্ত মো. শফিক আল ওয়াজান (সম্রাট) ডোমার পৌরসভার ছোট রাউতা (ডাঙ্গাপাড়া) এলাকার মৃত হাবিবুর রহমানের ছেলে। বর্তমানে সম্রাট তার গ্রামের বাড়ি নীলফামারী সদর উপজেলার চওড়া ইউনিয়নের কিসামত দলুয়াতে থাকে।
শনিবার অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, চার বছর আগে এক লক্ষ টাকা জামানত দিয়ে ডোমার উপজেলা সাব রেজিস্ট্রি অফিসের সামনে ওই এলাকার সম্রাটের কাছে অফিস ও ব্যবসা করার জন্য দোকান ভাড়া নেন স্থানীয় সাংবাদিক শাহিনুর রহমান। দোকানটি ভাড়া নেওয়ার দুই বছর পর, পারিবারিক সমস্যার কারণে দোকানটি ছেড়ে দিতে চাইলে জামানতের টাকা ফেরত দিতে বিভিন্ন টালবাহানা করেন সম্রাট। একাধিকবার স্থানীয় গন্যমান্য ব্যক্তিদের মাধ্যমেও তার সাথে যোগাযোগ করার চেষ্টা করা হলেও সে ধরা দেয়নি। উল্টো টাকা চাইতে গিলে সম্রাট বিভিন্ন সময় গালিগালাজ ও মারপিটের ভয়ভীতি প্রদর্শন করেন বলে অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে।
এছাড়াও এলাকার একাধিক লোকের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। অভিযুক্ত সম্রাট এলাকায় একটি আমার বাজার নামে এমএলএম ব্যবসার মাধ্যমে বহু মানুষের কাছ থেকে কয়েক লক্ষ টাকা হাতিয়ে নেন। এমএলএম কোম্পানিটি প্রতারণার মাধ্যমে পালিয়ে গেলে সম্রাটও কিছুদিন এলাকা ছেড়ে আত্মগোপনে চলে যান তার গ্রামের বাড়িতে।
সাংবাদিক শাহিনুর রহমান বলেন, “দোকানটি চার বছর আগে ভাড়া নেই অফিস ও ব্যবসা করার জন্য। চুক্তি অনুযায়ী দোকান ছেড়ে দিতে হলে এক মাসে আগে লিখিত বা মৌখিক জানাতে হবে দোকান মালিক সম্রাটকে৷ কিন্তু দুই বছর ধরে তাকে একাধিকবার দোকানটি ছেড়ে দেওয়ার কথা বললে, দোকান ঘরের মালিক সম্রাট নানা টালবাহানা করে কালক্ষেপণ করেন এবং একপর্যায়ে বিভিন্ন গালিগালাজ ও হুমকি দিতে থাকেন। এ পরিস্থিতিতে নিরাপত্তাহীনতায় ভুগে থানায় অভিযোগ করতে বাধ্য হয়েছি।”
অভিযুক্ত দোকান মালিক সম্রাটের বক্তব্য জানতে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি। তবে তার স্ত্রী ও সন্তান জানিয়েছেন, সম্রাট কয়েকদিন ধরে বাড়িতে নেই এবং তাদের নাম্বারও ব্ল্যাকলিস্টে রেখেছেন।
এ বিষয়ে ডোমার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) বলেন, “অভিযোগ পেয়েছি আইনি প্রকৃয়া চলমান রয়েছে। তদন্ত করে অভিযোগ প্রমাণিত হলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”
এদিকে, স্থানীয়রা জানিয়েছেন, সম্রাটের এমএলএম ব্যবসার প্রতারণার কারণে অনেকেই আর্থিক ক্ষতির শিকার হয়েছেন। তার দ্রুত গ্রেপ্তার ও বিচার দাবি করেছেন ভুক্তভোগীরা।